নিজস্ব প্রতিবেদক।। পৃথিবীর এখন ভয়ানক দুঃসময়, দুঃসময় এখন দেশেরও। জীবাণুর বিরুদ্ধে এক অসম যুদ্ধে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো যখন মুখ থুবড়ে পড়েছে, তখন আমাদের দেশ নিয়ে শঙ্কা স্বাভাবিকভাবেই পর্বতসম। একদিকে যেমন ব্যাপক ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্র, তেমনি তার স্বাস্থ্য সুবিধা ও স্বাস্থ্য সচেতনা দুই-ই নাজুক। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতা ও অদক্ষতাও সুবিদিত। আর প্রশাসন নিয়ে নাগরিক অসন্তোষের একটি বড় উপলক্ষ পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে পুলিশই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সমালোচিত। সেসব সমালোচনা বহুলাংশে সঙ্গতও। কিন্তু করোনাকালে দেখা গেলো মানবিক পুলিশ বাহিনী। আর সেই মানবিক পুলিশেরই একজন সদস্য বরিশাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুল হক।
জানা যায়, করোনাভাইরাসের এ দুযোর্গে বরিশালবাসীর যেকোন সহযোগিতা পাশে ছিলেন তিনি। ছুটেছেন জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। রাতের অধারে অসহায়দেরকে দিয়েছেন ত্রান সহায়তা। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সকলের ঘরে থাকা নিশ্চিতে বরিশাল পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কাজ করেছেন তিনি।

করোনা সময়কালে যানবাহনের অভাবে অসহায় রোগীদের সেবা কিংবা অর্থের অভাবে খাদ্য ক্রয় করতে না পারা সকল ক্ষেত্রেই হাত বাড়িছেন সাহায্যের। ব্যক্তিগত পর্যায়ে দিয়েছেন খাদ্য সহায়তাও। দেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগত লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত ও তদারকির ব্যবস্থা করেন। সরকারের ঘোষিত ১০ মে থেকে শপিংমল কিংবা বিপণী-বিতানগুলোতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে কাজ করছেন তিনি।
বরিশাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুল হক জানান, ‘করোনার দুর্যোগে দেশবাসী তথা বরিশালের যেকোন সহযোগিতায় প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ সদস্যরা। চিকিৎসক, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছসেবী যে যার মতো করেই জীবন বাজি রেখে জীবাণুর বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধে আছেন। সবার অবদানই শ্রদ্ধার দাবি রাখে। সবাই একসময় গৃহমুখী হয় বা হতে হয়, কিন্তু পুলিশ থাকে রাস্তায়। কোনো আশ্রয় থাকুক বা না থাকুক, যত দুর্যোগই হোক বা সংকট আসুক- পুলিশ থাকে রাস্তায়।’
নাইমুল হক আরও জানান, ‘দেশের সকলের ভালো থাকা নিশ্চিতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে বের হওয়া যাবে না। ঘরে অবস্থান করেও করোনাযোদ্ধা হিসেবে পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। কেবল পুলিশ কিংবা সরকারের একার পক্ষে করোনা নিয়ন্ত্রন সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।’